প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে চূড়ান্ত নিয়োগের জন্য সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েও নিয়োগ পাননি যশোরের ১০৬ জন প্রার্থী। কী কারণে তাঁদের নিয়োগ দেওয়া হয়নি, সে বিষয়েও কিছু জানেন না তাঁরা। এ বিষয়ে জানতে শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সকালে যশোর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নেন তাঁরা।
এ সময় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিতকে পেয়ে তাঁকে ঘিরে ধরেন নিয়োগবঞ্চিত প্রার্থীরা। তাঁরা প্রতিমন্ত্রীর কাছে নিজেদের অভিযোগ তুলে ধরেন।
প্রতিমন্ত্রী কিছু সময় দাঁড়িয়ে তাঁদের কথা শোনেন। পরে বিষয়টি মন্ত্রণালয়ে গিয়ে খোঁজখবর নিয়ে জেলা প্রশাসককে জানাবেন বলে তাঁদের আশ্বস্ত করেন।
মণিরামপুরের ঝাঁপা গ্রামের হাবিবুর রহমান জানান, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ-২০২৫-এর লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয় চলতি বছরের ৯ জানুয়ারি। ২৯০টি পদের বিপরীতে কয়েক হাজার প্রার্থী পরীক্ষায় অংশ নেন। এরপর ২৬ জানুয়ারি থেকে ৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বিভিন্ন ধাপে মৌখিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়।
হাবিবুর রহমান বলেন, সব ধাপের পরীক্ষায় অংশ নিয়ে ২৯০ জন প্রার্থী চূড়ান্ত নিয়োগের জন্য সুপারিশপ্রাপ্ত হন। তবে পরবর্তী সময়ে ১৮৪ জনকে নিয়োগ দেওয়া হয়। বাকি ১০৬ জন নিয়োগ থেকে বঞ্চিত হন।
শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) সরকারি ওয়েবসাইটে যশোরে নিয়োগ পাওয়া ১৮৪ জনের নামের তালিকা প্রকাশ করা হয়। সেখানে চূড়ান্ত সুপারিশপ্রাপ্ত বাকি ১০৬ জনের নাম না থাকায় তাঁদের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা দেখা দেয়।
শনিবার সকালে ওই ১০৬ জন জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে গিয়ে বিষয়টি জানতে চান। মণিরামপুরের কুচলিয়া গ্রামের রোহিত বিশ্বাস বলেন, তাঁদের কয়েকজন জেলা প্রশাসকের সঙ্গে দেখা করে নিয়োগ না পাওয়ার কারণ জানতে চান।
রোহিত বিশ্বাসের ভাষ্য, জেলা প্রশাসক তাঁদের জানিয়েছেন, তিনি নিয়োগ বোর্ডের যশোর জেলার সভাপতি। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত মন্ত্রণালয় থেকে নেওয়া হয়। ফলে ১০৬ জন কেন নিয়োগবঞ্চিত হয়েছেন, সে বিষয়ে তাঁরও জানা নেই।
শার্শার মুসলিমা আক্তার, ভবানীপুর গ্রামের ঊর্মি বিশ্বাস ও চৌগাছার জগন্নাথপুর গ্রামের আবু মুসা বলেন, যশোরের আট উপজেলায় চূড়ান্ত সুপারিশপ্রাপ্ত ১০৬ জন নিয়োগবঞ্চিত হয়েছেন। তাঁরা নিয়োগের অপেক্ষায় ছিলেন। কিন্তু সরকারি ওয়েবসাইটে নাম না পাওয়ার পর হতাশ হয়ে জেলা প্রশাসকের সঙ্গে কথা বলতে এসেছেন।
নিয়োগবঞ্চিত প্রার্থীদের দাবি, তাঁরা শুনেছেন গোয়েন্দা প্রতিবেদনের ভিত্তিতে নিয়োগের চূড়ান্ত তালিকা করা হয়েছে। তবে কার বিরুদ্ধে কী অভিযোগ বা প্রতিবেদনে কী তথ্য দেওয়া হয়েছে, তা তাঁদের জানানো হয়নি।
শনিবার সকাল থেকে দীর্ঘ সময় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে অবস্থান করেন নিয়োগবঞ্চিত প্রার্থীরা। পরে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিতের একটি সভায় যোগ দেওয়ার কথা জানতে পেরে তাঁর সঙ্গে দেখা করার জন্য অপেক্ষা করতে থাকেন তাঁরা।
বেলা ১২টার দিকে প্রতিমন্ত্রী দুর্গাপূজার প্রস্তুতি সভায় যোগ দিতে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে গেলে নিয়োগবঞ্চিত প্রার্থীরা তাঁর সঙ্গে কথা বলেন। এ সময় জেলা প্রশাসকও তাঁর সঙ্গে ছিলেন।
প্রতিমন্ত্রী তাঁদের উদ্দেশে বলেন, ‘আপনারা আমার ভাই-বোন, সন্তানের মতো। আপনাদের কষ্টের কথা বুঝেছি। আমি বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলব।’
জি বাংলা ডেস্ক